Views Bangladesh Logo

উগ্রপন্থিদের ভোট দিলে ভবিষ্যতে ভোটাধিকার নাও থাকতে পারে: ববি হাজ্জাজ

গ্রপন্থিদের ভোট দিলে ভবিষ্যতে ভোটাধিকার নাও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন সড়কে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশ এখন সংকটের সম্মুখীন হয়েছে। এই নির্বাচনে অনেক শক্তি নেই, শুধু দুটো শক্তি আছে। একটা হলো উদারপন্থি গণতান্ত্রিক শক্তি, যার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আরেকটা হলো উগ্রপন্থি ডানপন্থি শক্তি, যার নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। এই উগ্রপন্থি শক্তির নেতৃত্ব ইতোমধ্যে পরিষ্কার করেছে, আপনারা যদি তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের অধিকার নাও থাকতে পারে।

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আমাদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মের ভাই-বোনদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা পরিষ্কারভাবে এই এলাকার জোট প্রার্থী মামুনুল হক বলেছেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করেছে। এই প্রতিবাদের পেছনে একটি স্পষ্ট কারণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জোটের প্রিমিয়ার নেতা ডা. শফিক সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যেখানে মা ও বোনদের প্রতি অশালীন ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।

তিনি বলেন, যাদের চিন্তা ও ভাষা নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে দেখতে চাই না। এ কারণেই আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দেশের সরকারি দায়িত্ব কোনোভাবেই উগ্রপন্থিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশ উদারপন্থি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত এই দেশের মানুষ বারবার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করেছে। এই ইতিহাস এত সহজে মুছে ফেলা যাবে না।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আপনারা যদি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি—এই ওয়ার্ডে শুধু ভোটের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকব না। আমার ইশতেহারের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হলো, প্রতি মাসে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ওপেন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা—থানা, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, সিটি করপোরেশনসহ সবাই।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে পাঁচ বছরে একবার ভোট দেওয়া নয়, গণতন্ত্র মানে সরকারকে সবসময় জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করা।

ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ফুটপাথ হবে পথচারীদের জন্য, দোকানের জন্য নয়। তবে যেসব ব্যবসায়ী বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদের হঠাৎ উচ্ছেদ করা হবে না। ধাপে ধাপে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি কিছু রাস্তাকে নির্দিষ্ট সময় বা সাপ্তাহিকভাবে ‘মার্কেট স্ট্রিট’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ