ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার মামলার রায় আজ
ডিভোর্স সম্পন্ন না করেই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করা হবে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই বহুল আলোচিত মামলার রায় প্রকাশ করবেন। এর আগে গত ৬ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন আদালত।
দীর্ঘ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদনসহ নানা আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্রিকেটার নাসিরের সর্বোচ্চ সাত বছর এবং তামিমার সর্বোচ্চ ২১ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আশা প্রকাশ করেছেন যে, আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শুরু থেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছে। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে তাদের খালাসের সপক্ষে বিভিন্ন আইনি পয়েন্ট তুলে ধরেন। রায় নিয়ে ইতিবাচক আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, মামলার সার্বিক দিক বিবেচনায় আসামিরা আদালত থেকে খালাস পাবেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মির সঙ্গে রাকিব হাসানের বিয়ে হয় এবং তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন রাকিব হাসান। এরপরই রাকিব হাসান বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৫০০ ও ৩৪ ধারায় ব্যভিচার, মানহানি, পূর্বের বিয়ে গোপন রেখে পুনরায় বিয়ে এবং অন্যের স্ত্রীকে প্ররোচিত করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নাসির বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এই ঘটনার কারণে বাদী ও তার সন্তান মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তসহ সামাজিক মর্যাদাহানির শিকার হয়েছেন।
মামলাটি দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পিবিআইয়ের পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান নাসির ও তামিমাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিলেও মামলার অপর আসামি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। আজ দুই পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে