Views Bangladesh Logo

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি

ভেনেজুয়েলায় ৭ মাত্রার বেশি শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে পৌঁছেছে। গত দুই দিনে রাজধানী কারাকাস, উপকূলীয় শহর লা গুয়াইরাসহ বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৩ হাজার ৩৬০ জনকে। এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভেনেজুয়েলার পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার) জর্জ রদ্রিগুয়েজ। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অনেক মানুষ এখনও ভবনের নিচে আটকা পড়ে থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

জর্জ রদ্রিগুয়েজ বলেন, এমন বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর প্রতিটি জীবন বাঁচানো এক একটি অলৌকিক ঘটনা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। দুটি কম্পনের ব্যবধান ছিল মাত্র ৪০ সেকেন্ড। দেশটির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাস, লা গুয়াইরাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য বহুতল ভবন, আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। ইউএসজিএস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, চূড়ান্ত হিসাবে নিহতের সংখ্যা এক লাখও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া স্বজনদের উদ্ধারের আশায় দিন-রাত অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। লা গুয়াইরার বাসিন্দা নাজারেথ জিমেনেজ জানান, তার ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি সহায়তার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা বিশ্বের সব দেশের সরকারের কাছে সাহায্য চাই। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনও অনেক মানুষ জীবিত আছেন।

একই শহরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার পালাসিওস জানান, তার ছয় বছরের ছেলে এবং পরিবারের আরও পাঁচ সদস্য একটি আটতলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধারকাজ চালালেও ভারী কংক্রিট সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্রেন ও যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের কারণে অভিযান কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না।

এদিকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম এবং ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। যেসব দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করতে চায়, তাদের সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। এই মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধার করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ