ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যু
ভেনেজুয়েলার ভয়াবহ ভূমিকম্পে হাজারো মানুষের প্রাণহানির মধ্যেই নেমে এসেছে আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহোর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। টানা ৭৪ ঘণ্টার মরিয়া অনুসন্ধানের পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ।
৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো দে লা গুয়াইরার হয়ে খেলছেন। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার সময় তিনি দলীয় দায়িত্বে রাজধানী কারাকাসে অবস্থান করছিলেন। ওই ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটে।
ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরই ত্রেহো জানতে পারেন, লা গুয়াইরার প্লায়া গ্রান্দেতে অবস্থিত তাদের আবাসিক ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। খবর পেয়েই তিনি দুর্গত এলাকায় ছুটে যান এবং উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের খোঁজে যোগ দেন। পরে আর্জেন্টিনা থেকে তার বাবা ও ভাইও ভেনেজুয়েলায় এসে অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নেন।
দীর্ঘ ৭৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার স্ত্রী ইয়ানিনা মারানেল্লা এবং দুই সন্তান অ্যারন ও আইনহোয়ার মরদেহ উদ্ধার করেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এবং সতীর্থরাও এ মর্মান্তিক খবর নিশ্চিত করে শোক প্রকাশ করেছে।
পরিবারের সন্ধান না পাওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় ত্রেহো লিখেছিলেন, "আমাদের প্লায়া গ্রান্দের ভবনটি ধসে পড়েছে। আমার পরিবারের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। তাদের জন্য প্রার্থনা করুন। যদি কেউ তাদের দেখে থাকেন, দয়া করে জানাবেন। আমি এখনো বিশ্বাস করতে চাই, তারা হয়তো তখন ভবনের বাইরে ছিল।"
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ভেনেজুয়েলা ও আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ফুটবলার, ক্লাব ও সমর্থক লুকাস ত্রেহোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং তার পরিবারের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
মতামত দিন