সচিবালয়ে আগুন
কারণ খুঁজতে তদন্ত করছে বিভিন্ন কমিটি-সংস্থা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগার কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠিত আট সদস্যের কমিটিও।
প্রাথমিকভাবে গড়া সাত সদস্যের কমিটি বাতিলের পর নতুন ওই কমিটি গঠন করেছে সরকার। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে আহ্বায়ক ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) সদস্য সচিব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই তদন্ত চালাচ্ছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালেও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন ঢাকা ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিট কর্মকর্তারা। আলামত সংগ্রহে আসেন সিআইডির ফরেনসিক দল।
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের টানা দশঘণ্টার চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে ওই ভবনে থাকা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ডিএমপির এক পুলিশ সদস্য জানান, শুক্রবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেন ডিএমপির কমিশনার শেখ মো সাজ্জাত আলী। এসেছিল ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটও।
একই সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সভার পর ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরাও।
সভায় ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ওসমান গণি, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হামিদুর রহমান, ফায়ার সার্ভিসের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক তানভীর মনজুরসহ তদন্ত কমিটির আট সদস্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনও ঘিরে রাখা হয়েছে আগুনে পুড়ে যাওয়া সাত নম্বর ভবনটি। সম্ভাব্য সব বিষয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ছিলেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
সিআইডির ফরেনসিক দলের পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার দেবনাথ জানান, গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে নানা আলামত জব্দ করা হয়। আজও নতুন আলামতের সন্ধানে আশেপাশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরিদর্শন করেছি। তদন্ত কেবল শুরু হয়েছে। তদন্ত চলছে। শনিবারও (২৮ ডিসেম্বরর) ফের বৈঠক করবেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
তিনি বলেন, ‘আগুন লাগার ঘটনাটি নাশকতা নাকি দুর্ঘটনা, সে বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থা হয়নি। আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছি। তদন্ত সাপেক্ষে বাকি কথা বলা যাবে’।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে