স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর খোলা আকাশের নিচে টিকাদান, ভোগান্তি
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে টেবিল-চেয়ার পেতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হামসহ শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ফটকের সামনে ব্যানার ও ত্রিপল টানিয়ে অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেখানে টিকাদানের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বসেছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নিয়ে অভিভাবকেরা সেখানে আসছেন।
দেড় বছর বয়সী মেয়ে হালিমাকে টিকা দিতে নিয়ে আসা এক মা বলেন, বাসার কাছেই হওয়ায় আগে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে মেয়েকে টিকা দিয়েছেন। এবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি না থাকায় বাইরে এসে টিকা দিতে হচ্ছে।
আরেক অভিভাবক বলেন, আগেরবার স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরে বসেই শিশুকে টিকা দিতে পেরেছিলেন। এবার সেবাকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে শিশুর কষ্ট হচ্ছে এবং কান্নাকাটি করছে।
ইসরাত নামে এক নারী জানান, তার মেয়ের আগামী মাসে টিকা দেওয়ার তারিখ রয়েছে। আগের টিকাগুলো রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই দেওয়া হয়েছে। তাই আগামী মাসেও টিকা দেওয়া হবে কি না, তা জানতে তিনি সেখানে এসেছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে জানিয়েছেন, পরবর্তী টিকাও দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, শনিবার থেকে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে দেওয়ায় খালি জায়গায় ত্রিপল টানিয়ে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা আপাতত আগের মতো দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী হামের টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। আশপাশের শিশুদের টিকা নিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য এই ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যেও সেবা চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
রাড্ডার কর্মকর্তারা জানান, হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাসহ নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় ১২০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যান। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।
মতামত দিন