Views Bangladesh Logo

এআই ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ চ্যানেল খুলবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে ওয়াশিংটন ছেড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। সফরের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলায় পারস্পরিক যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ চ্যানেল চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের মাধ্যমে এআই-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে।

ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকে এআই ছাড়াও বাণিজ্য, ইরান, তাইওয়ান, ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা চলতি বছরের শেষ দিকে আরও দুবার বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন। নভেম্বর মাসে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন বা এপেক সম্মেলনে এবং ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে তাদের আবার মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আলোচনায় এআই নিয়ে সহযোগিতার নতুন কাঠামো তৈরি হলেও দুই দেশের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার বড় বিরোধগুলো পুরোপুরি মেটেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়েই এআইকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে। এ অবস্থায় এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন দিক হিসেবে সামনে এসেছে।

বাণিজ্য ইস্যুতেও কিছুটা সমঝোতা হয়েছে। নভেম্বরের ১০ তারিখে শেষ হওয়ার কথা থাকা দুই দেশের বাণিজ্য-সংক্রান্ত বিরতি ২০২৭ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, অতিরিক্ত এই সময় ব্যবহার করে দুই দেশ অর্থনৈতিক বিষয়ে আরও আলোচনা করবে। এর ফলে শুল্ক, পণ্য আমদানি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক বিরোধ নিয়ে আলোচনার সুযোগ আরও কিছুটা বাড়ল।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি মেট্রিক টন মার্কিন কয়লা আমদানি করবে চীন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের অসংবেদনশীল পণ্যে আরও অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন বোর্ডও কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

বৈঠকে তাইওয়ান, ইরান, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার বিষয়ে একমত হয়েছে। এ ছাড়া চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা চিড়িয়াখানায় দুটি জায়ান্ট পান্ডা পাঠানোর বিষয়টিও সফরের আলোচিত দিকগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।

সফরটি ছিল নানা আনুষ্ঠানিকতা ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনেও সমৃদ্ধ। সামরিক কুচকাওয়াজ, হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় ভোজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দলিলপত্র পরিদর্শনের মতো কর্মসূচিতে অংশ নেন সি চিন পিং। তবে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সফরে বড় কোনো যুগান্তকারী চুক্তির বদলে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং সম্পর্কের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ