Views Bangladesh Logo

যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আরও ২ মাস বাড়ল

নভেম্বরে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে যাওয়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওয়াশিংটনে স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে অনির্ধারিত এক বৈঠকের পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা আসে।

ফক্স নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, “আমরা যাকে ‘বুসান চুক্তি’ বলছি, তা বাড়াতে যাচ্ছি। দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের ওই চুক্তি ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা এখন ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।”

জানুয়ারি নাগাদ আরও বড় পরিসরের একটি অর্থনৈতিক প্যাকেজের বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান বেসেন্ট। তবে চলমান চুক্তিটিকে আরও বাড়িয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তিনি।

স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘চীনের পক্ষ থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি পূরণ হয়নি, তাই আমরা তাদের সঙ্গে বসে আমাদের প্রত্যাশার কথা জানানোর পর এখন দেখতে চাই, আগামী কয়েক মাসে তারা চুক্তি বাস্তবায়নে আরও পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা রাখতে পারে কি না।’

বহু বছর পরে রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই এই ঘোষণা আসে। সংশ্লিষ্ট মহল এটিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আরও কিছু ঘোষণা আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন বেসেন্ট। এর মধ্যে আরও বেশি মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা ও আর্থিক সেবা খাতের সম্ভাব্য চুক্তি থাকতে পারে।

এদিকে গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) থেকে চীনের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বেসেন্ট ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার, যা বহুল আলোচিত এই রাষ্ট্রীয় সফরের কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছে।

সেদিন বেসেন্ট ও গ্রিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সংক্রান্ত হ্যাকিং, বিশেষত জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে সতর্কবার্তা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসেন্ট ও গ্রিয়ার জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত হ্যাকিং ঘটনা, বিশেষত জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট ঘটনা নিয়ে সতর্কবার্তা বিনিময়ের প্রস্তাব দিয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন-সংক্রান্ত ‘বোর্ড অব ট্রেড’ উদ্যোগের আওতায় দুই দেশ এমন কিছু পণ্যের তালিকায় সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, যেগুলোর ওপর তুলনামূলক কম শুল্ক প্রযোজ্য হবে বলে সাংবাদিকদের জানান জেমিসন গ্রিয়ার।

গ্রিয়ার আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, চীনের পক্ষ থেকে এই তালিকায় থাকবে ভোক্তাপণ্য ও কম প্রযুক্তির পণ্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে থাকবে জ্বালানি পণ্য, কৃষিপণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও এই জাতীয় অন্যান্য পণ্য।’

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই সফরটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ