২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান, নকআউট জয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র
২৪ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে জয়ের স্বাদ পেল যুক্তরাষ্ট্র। সান্তা ক্লারার লেভাইস স্টেডিয়ামে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে এই জয় এসেছে বাড়তি নাটকীয়তা আর কঠিন এক পরীক্ষা পেরিয়ে; ম্যাচের একটা বড় অংশ দশজনের দল নিয়ে খেলতে হয়েছে তাদের।
প্রথমার্ধজুড়ে বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েও বসনিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে বেশ ভুগছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৩১তম মিনিটে একবার জাল খুঁজে পেলেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয় ফোলারিন বালোগানের। অবশেষে ৪৫তম মিনিটে সাফল্য ধরা দেয়; প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পাল্টে আসা একটি বল পেয়ে বসনিয়ার গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলিয়কে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান বালোগান। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে তাঁর তৃতীয় গোল।
তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তারিক মুহারেমোভিচের গোড়ালিতে পা দেওয়ার অভিযোগে ভিএআর পর্যালোচনার পর সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগান, ফলে দশজনের দলে পরিণত হয় যুক্তরাষ্ট্র। দলের সেরা গোলদাতাকে হারানোর পাশাপাশি পরের ম্যাচেও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন তিনি। এর আগে প্রথমার্ধের শেষদিকে বসনিয়ার অধিনায়ক এদিন জেকোর সঙ্গে সংঘর্ষে মাথায় আঘাত পেয়ে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়েন টাইলার অ্যাডামসও, তবে পরীক্ষা শেষে তিনি আবার মাঠে ফেরেন।
দশজনের দল নিয়ে চাপে পড়া অবস্থাতেই বড় এক ধাক্কা খায় বসনিয়াও; ৪০ বছর বয়সী তারকা অধিনায়ক ও দলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এদিন জেকো ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। জাতীয় দলের হয়ে এটিই হতে পারে তাঁর শেষ ম্যাচ, যা নিয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় গ্যালারিতে। জেকোর মাঠ ছাড়ার পরপরই একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনে বসনিয়া।
দশজনের দল নিয়েও লিড ধরে রাখার কঠিন লড়াইয়ে দুর্দান্তভাবে সফল হয় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২তম মিনিটে বসনিয়ার রক্ষণ-দেয়ালের ওপর দিয়ে অসাধারণ এক ফ্রি-কিক নেন মালিক তিলম্যান, যা বসনিয়ার গোলরক্ষকের হাতের ছোঁয়া লেগেও ঠেকানো যায়নি। এই গোলেই ব্যবধান ২-০ করে ম্যাচ কার্যত নিশ্চিত করে ফেলে স্বাগতিকরা।
পুরো ম্যাচে বল দখলে স্পষ্ট আধিপত্য বজায় রাখে যুক্তরাষ্ট্র, তবে গোলমুখে সুযোগ তৈরিতে বসনিয়ার লো-ব্লক রক্ষণকৌশল তাদের বেশ ভুগিয়েছে দীর্ঘ সময়। ম্যাচের শুরুর দিকে বসনিয়াও পাল্টা আক্রমণে ভালো কিছু সুযোগ তৈরি করেছিল; এরমেদিন দেমিরোভিচের একটি জোরালো শট গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের বুকে লেগে প্রতিহত হয়, এরপর কর্নার থেকে কেরিম আলাইবেগোভিচের চেষ্টাও দারুণ দক্ষতায় ঠেকান তিনি। তবে লাল কার্ডের পরও রক্ষণে সংগঠিত থেকে এবং প্রতি-আক্রমণে ধারালো থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হতে দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
২০০২ বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো নকআউট ম্যাচ জিতল যুক্তরাষ্ট্র, যা মার্কিন ফুটবলের জন্য এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রথম দুই ম্যাচে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে সহজে হারানো যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে ধুঁকতে থাকা বসনিয়া শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছিল।
এই জয়ে শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ এখন বেলজিয়াম, যারা আগের ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের পেনাল্টিতে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে সেনেগালকে হারিয়ে উঠেছে পরের রাউন্ডে। আগামী সোমবার সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হবে এই লড়াই, যেখানে বালোগানের অনুপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কৌশল সাজাতে হবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মতামত দিন