৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতনের পর শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইরাকি প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরাকে আর মার্কিন সেনা রাখার কোনো প্রয়োজন দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাকে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মনে করি না সেখানে আর আমাদের সামরিক বাহিনীর থাকার প্রয়োজন আছে।’
এ সময় সেনা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জানান, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি সম্পন্ন হবে। তবে মার্কিন বাহিনী চলে গেলেও দেশটির ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ইরাকে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাবে।
এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে একই সময়সীমার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আল-জাইদি বলেন, ‘এটি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কোনো বিকল্প নয়।’
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে ইরাকের সঙ্গে ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন। ওই চুক্তিতে মূলত জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ সামরিক অভিযান ধাপে ধাপে গুটিয়ে নেওয়ার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময়েও ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ২১ বছর পর অবশেষে সেই সামরিক উপস্থিতির চিরতরে অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
মতামত দিন