ইরানের উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনায় মার্কিন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের ড্রোন তৎপরতার জবাবে দেশটির উপকূলীয় রাডার ও নজরদারি স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
শনিবার (৬ জুন) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালি লক্ষ্য করে ইরান চারটি ড্রোন ছুড়লে মার্কিন বাহিনী সেগুলো আকাশেই ভূপাতিত করে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের এই আত্মঘাতী ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। ড্রোন হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওমানের কাছাকাছি ইরানের ‘গোরুক’ এবং ‘কেশম দ্বীপে’ অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি ও রাডার স্টেশনগুলোতে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী।
একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা করা হলেও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষ এখনও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে তেহরান তাদের আটকে থাকা শত কোটি ডলারের তেলের রাজস্বের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে ইরান।
অন্যদিকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। চলমান এই ড্রোন ও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা দুই দেশের যুদ্ধবিরতির আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে