আইআরজিসি ও মাহান এয়ারকে সহায়তা: ৪ দেশের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে পণ্য, লজিস্টিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে চীন, ভারত, রাশিয়া ও ইরানের ছয়টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, আইআরজিসির হয়ে অস্ত্র ও জনবল পরিবহনে ব্যবহৃত মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চীনের সাংহাইভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, একটি রুশ কার্গো এয়ারলাইন এবং মাহান এয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেনারেল সেলস এজেন্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, আইআরজিসি বা মাহান এয়ারকে আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া মানে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা। তাই এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার নীতি অব্যাহত থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হতে পারে এবং মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি, তৃতীয় দেশের কোনো ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে গেলে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতেও পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বেসামরিক বিমান সংস্থা হিসেবে পরিচিত হলেও মাহান এয়ার আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় পরিবহন করে। তবে মাহান এয়ার এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, আইআরজিসি অবকাঠামো, জ্বালানি, ব্যাংকিং, রিয়েল এস্টেট, ছায়া তেল বাণিজ্য, ভুয়া কোম্পানি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মতামত দিন