ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বাণিজ্যিক তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর ইরানে রাতভর বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানে ইরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) কেন্দ্র, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌ-সম্পদকে নিশানা করা হয়েছে। ধ্বংস করা লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট রয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে পুনরায় জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার ভোরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।
মূলত হরমুজ প্রণালীর কাছে কাতারভিত্তিক মালিকানাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ট্যাংকার ‘আল রেখায়াত’-এ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। এই হামলার ঘটনায় কাতার ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে ইরান এই হামলার দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে এবং ওই কৌশলগত জলপথে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেছে।
মতামত দিন