আইসিসির প্রেসিডেন্ট ও কৌঁসুলির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট বিচারক তোমোকো আকানে এবং জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলি আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, আইসিসি এমন দেশগুলোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে, যেসব দেশ আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।
এই পদক্ষেপ ট্রাম্প প্রশাসনের আইসিসিবিরোধী অবস্থানের ধারাবাহিকতা। গত বছরের এক নির্বাহী আদেশের আওতায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ হবে এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। তবে চলমান লেনদেন গুটিয়ে নিতে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
আইসিসি এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বিচারিক দায়িত্ব পালনের কারণে কর্মকর্তাদের শাস্তি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের শাসনকে দুর্বল করে। আদালতের ভাষ্য, বিচারকদের হুমকির মুখে ফেললে পুরো আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাই ঝুঁকিতে পড়ে।
নিষেধাজ্ঞার শিকার আবদুলায়ে সেয়ে সেই কৌঁসুলি দলের সদস্য, যারা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে নেতানিয়াহুকে রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা।
আইসিসির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন বলেছেন, আন্তর্জাতিক আদালতগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। তবে আইসিসির বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তি সদস্যরাষ্ট্রের নাগরিক না হলেও আদালত বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।
মতামত দিন