ভারতের ৪ প্রতিষ্ঠান ও ৩ ব্যক্তির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
ইরানের পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের বড় ধরনের লেনদেনে সহায়তা করার অভিযোগে ভারতের চারটি প্রতিষ্ঠান এবং তিন নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের নেওয়া সাম্প্রতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পোর্টইজ পার্টনার্স এলএলপি (যা পূর্বে পোর্টিজ পার্টনার্স নামেও পরিচিত), সদাশিভ ওভারসিজ লিমিটেড, পিপি সফটেক প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্রকৃতিজ ইনফ্রা ইম্পেক্স ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। অন্যদিকে যাদের ওপর ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন পোর্টইজ পার্টনার্সের দুই অংশীদার হরিণ রামচন্দ্র রাঙ্গি ও ইন্দ্রিসমিয়া আশরাফমিয়া শেখ এবং পিপি সফটেকের সাথে যুক্ত প্রশান্ত গার্গ।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভারতে ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানিতে কাস্টমস ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পোর্টইজ পার্টনার্স প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে ।
অন্যদিকে সদাশিভ ওভারসিজের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার মূল্যের ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির অভিযোগ তোলা হয়েছে। বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান পিপি সফটেক ও প্রকৃতিজ ইনফ্রা আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য লেনদেনের সাথে জড়িত ছিল বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানি পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ক্রয়, সংগ্রহ, বিক্রয়, পরিবহন বা বিপণনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য লেনদেন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো জেনেশুনেই অংশগ্রহণ করেছে।
ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ পৃথকভাবে আরও ৬০ জন ব্যক্তি, সত্তা ও ভেসেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে যখন ওয়াশিংটন কর্মী ফেরানো শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে মার্কিন-ইরান চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এসব নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
মতামত দিন