টানাপোড়েনের মধ্যেই ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেরো ভিওত্তির ভিসা সাময়িকভাবে বাতিল করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করা হলেও তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না। তিনি ভিসা ছাড়াই আপাতত দেশটিতে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত নতুন রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন না দেওয়ার জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রাজিল যদি ওয়াশিংটনের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে অনুমোদন দেয়, তাহলে রাষ্ট্রদূত ভিওত্তির ভিসাও পুনর্বহাল করা হবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড্যানি পেরেজকে মনোনয়ন দেন। তবে ব্রাজিল সরকার এখনো তার নিয়োগে সম্মতি দেয়নি। ফলে ওয়াশিংটন এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।
ড্যানি পেরেজ ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। গত জুনে তার মনোনয়ন ঘোষণা করা হলেও এখনো মার্কিন সিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদন পাননি।
ব্রাজিলের সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ট্রাম্প প্রকাশ্যে পেরেজের নাম ঘোষণা করেন, যা তারা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করছে। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নিয়োগ অনুমোদন দেবে না ব্রাসিলিয়া।
গত মাসেও দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম ব্যুরোর কর্মকর্তাদের ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রাজিল। দেশটির সরকারের আশঙ্কা ছিল, অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ওই প্রতিনিধি দল সফরে আসতে চেয়েছিল।
সর্বশেষ পদক্ষেপে ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মতামত দিন