Views Bangladesh Logo

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩২ বছরের রেকর্ড গরম, বিস্তীর্ণ এলাকায় খরা

চলতি গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছিল তীব্র গরম ও ব্যাপক তাপপ্রবাহ। এর প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে খরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, গত ১৩২ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে দেশটি।

এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।

এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ডের চেয়েও তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল।

এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মেই এবারকার মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।

আগস্টও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ মাস ছিল। ওই মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।

১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময় গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার পাশাপাশি ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। এবারের গ্রীষ্মেও দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া তীব্র হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব এলাকায় পরিস্থিতি একই রকম ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হচ্ছে। এটি পর্যবেক্ষণ শুরুর পর ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ