ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘শান্তি চুক্তি’, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর ১৯ জুন
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৪ জুন) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার কথাও জানান তিনি। তবে এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি।
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এরপরই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন।” তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে টোলমুক্তভাবে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগের দিনই ট্রাম্প ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। যদিও তখন ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।
চুক্তির ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের কথাও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীকে অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথাও বলেন।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
তবে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। চুক্তির শর্তাবলীও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তির বাস্তব অবস্থা এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে ইরানের ভূমিকা কতটা থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তিনটি শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। যদিও এরই মধ্যে দুই দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা অব্যাহত ছিল। ফলে ঘোষিত শান্তি চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিশ্লেষকরা।

মতামত দিন