এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের বিশেষ সুবিধা বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র
চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মস্থল খোঁজার জন্য এইচ-১বি ভিসাধারীদের দেওয়া ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চাকরিচ্যুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বহু দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবারকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হতে পারে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (ডিএইচএস) গত বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবিত বিধি হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটে (ওএমবি) পর্যালোচনার জন্য পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। ওএমবির অনুমোদন পেলেই কেবল এটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হবে, যার মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এইচ-১বিসহ বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী কর্মী চাকরি হারানোর পর একটানা সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা তাদের অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি আগে আসে, সেই সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে, ভিসার শ্রেণি পরিবর্তন করতে কিংবা দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। নতুন প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে এই সুরক্ষা একেবারে উঠে যাবে।
অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছাড় তুলে নেওয়া হলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। চাকরি হঠাৎ চলে গেলে ওই কর্মী ও তার নির্ভরশীলরা তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ অবস্থান হারাবেন এবং সাধারণত অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হবেন, তারা দেশের ভেতরে থেকে ভিসার শ্রেণি বা নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে পারবেন না—যদি না ইউএসসিআইএস নিজ বিবেচনায় এই ব্যত্যয় ক্ষমা করে দেয়। একজন অভিবাসন আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, এই ৬০ দিনের সময়টুকু কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে যুক্তরাষ্ট্রে গড়া জীবন টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীদের ওপর। মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশই ছিল ভারতে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫২ লাখেরও বেশি। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা অনেক ভারতীয় কর্মীর জন্য বৈধ অভিবাসী মর্যাদা বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা এই পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। যেকোনো চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার আগে ফেডারেল বিধিপ্রণয়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ পার হতে হবে, আর ততদিন পর্যন্ত বিদ্যমান ৬০ দিনের ছাড় বহাল থাকবে। অর্থাৎ প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি এবং জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া বাকি থাকায় চূড়ান্ত রূপ পেতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।
উল্লেখ্য, ৬০ দিনের এই বিধান বর্তমানে ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএন-সহ একাধিক ভিসা শ্রেণির কর্মী এবং তাদের নির্ভরশীলদের জন্য প্রযোজ্য। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও দক্ষ কর্মী নির্ভর একাধিক খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মতামত দিন