বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম (ফোর্সড লেবার) প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করছে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এ ব্যবস্থায় শুল্কহার হবে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং আগে থেকেই জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্কের আওতায় থাকা কয়েকটি পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের ‘রিসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ বাতিল করার পর নতুন আইনি ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, নতুন শুল্ক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যচর্চা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে এবং অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ ১৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর শুল্কহার হবে ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। বাকি ৩৮টি দেশের জন্য শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ, যার মধ্যে চীনও রয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে কয়েকটি দেশ। নরওয়ে বলেছে, তাদের দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে কঠোর আইন রয়েছে, তাই এ শুল্কের কোনো যৌক্তিকতা নেই। অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলও শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। কানাডা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মওরা হিলি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন শুল্ক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়াবে, প্রতিযোগিতা কমাবে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ ভোক্তাদের ওপরই পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেকশন ৩০১-এর আওতায় শুল্ক আরোপের আইনি নজির আগে থেকেই থাকায় আদালতে এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হতে পারে।
মতামত দিন