হিজবুল্লাহর ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, তালিকায় ১০ ব্যক্তি
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরসের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে সংগঠনটিকে আবারও ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, হিজবুল্লাহ ইরানের আইআরজিসির কুদস ফোর্সের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তেহরানের বিভিন্ন স্বার্থ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে। সংগঠনটির কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবেও উল্লেখ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় হিজবুল্লাহর হয়ে অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ১০ ব্যক্তিকে রাখা হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি সংগঠনটির জন্য বড় অঙ্কের অর্থ পাচার ও স্থানান্তরের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন। তাদের লেবানন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের তথ্যও রয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের দাবি, ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কয়েক শ কোটি ডলার স্থানান্তর করা হয়েছে। এভাবে সংগৃহীত অর্থ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর অর্থায়নে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সম্পদের ওপর মার্কিন আর্থিক বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহর বর্তমান কার্যক্রম এবং ইরানের সঙ্গে সংগঠনটির আর্থিক ও সাংগঠনিক সম্পর্কই এবারের পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য। ইরানকে ঘিরে ওয়াশিংটনের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৭ সালে হিজবুল্লাহকে প্রথম বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির অর্থায়ন ও সহযোগী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। সর্বশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠনটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আরও কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনার বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মতামত দিন