বিশ্বব্যাপী অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
চলমান কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে নিজস্ব দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত চলতি আগস্টের শুরু থেকে এই উদ্যোগের আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়, যাতে তাঁরা আবেদনকারীদের আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করতে পারেন—বিশেষ করে আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন কি না, তা মূল্যায়ন করাই এর লক্ষ্য।
যেসব আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি আগে থেকে নির্ধারিত ছিল, তাঁদের সাক্ষাৎকার বাতিলের নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে বলে পররাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানা গেলেও এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ফি বৃদ্ধি এবং যোগ্যতার শর্তাবলি আরও কঠিন করার মতো নীতি বাস্তবায়ন করেছিল বর্তমান প্রশাসন। এছাড়া যেসব ব্যক্তি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় প্রবেশ করে পরবর্তীতে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাঁদের ভিসা বাতিলের মতো কঠোর পরিকল্পনার কথাও ইতোপূর্বে ঘোষণা করা হয়—যা প্রায় দুই লাখ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে।
সম্প্রতি একজন ফেডারেল বিচারক “পাবলিক চার্জ” বা সরকারি সহায়তার ঝুঁকির অজুহাত দেখিয়ে ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার একটি পৃথক নীতি বাতিল করেন। বিচার বিভাগের সেই আদেশের পরপরই নতুন করে সব দেশের জন্য সাক্ষাৎকার স্থগিতের এই ঘোষণা এলো।
এদিকে আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসন আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য হাজার হাজার ডলার খরচ করে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়বেন।
তবে বাতিল হওয়া সাক্ষাৎকারগুলো ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় নেওয়া শুরু হবে, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি।
মতামত দিন