‘ডি মিনিমিস’ সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ই-কমার্স রপ্তানি
দীর্ঘদিনের ‘ডি মিনিমিস’ শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যা বাংলাদেশের ই-কমার্স রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩১ জুলাই) এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৮০০ ডলার বা তার কম মূল্যের পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের যে সুবিধা ছিল নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তা বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতদিন এই সুবিধা মূলত প্রাইভেট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল।
হোয়াইট হাউস আরও জানায়, নতুন নিয়মটি আগামী ২৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এরপর থেকে এ ধরনের ছোট মূল্যের সব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও করের আওতায় আসবে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, হস্তশিল্প ও হালকা ইলেকট্রনিক পণ্য রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ইউএস-ভিত্তিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে থাকে। শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মূলত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী এই সুবিধা ২০২৭ সালের ১ জুলাই আইনগতভাবে বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প তা আগেভাগেই কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পার্সেলের মাধ্যমে পাঠানো পণ্যগুলোর ওপর নির্দিষ্ট শতকরা হারে অথবা নির্ধারিত ৮০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত শুল্ক বসবে, যা রপ্তানিকারী দেশের শুল্ক নীতির ওপর নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানিয়েছে, গত এক দশকে ডি মিনিমিস সুবিধার আওতায় আমদানিকৃত পণ্যের সংখ্যা দশগুণ বেড়ে ২০২৪ সালে ১.৩৬ বিলিয়ন প্যাকেজে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৪ মিলিয়ন প্যাকেজ ইউএস কাস্টমসে ঢুকছে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এয়ার ফ্রেইট ১০.৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে ঘটেছে। মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন চীন ও হংকং থেকে আগত পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে, যা পরে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার মাধ্যমে ৩০ শতাংশ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর জিম ব্যাঙ্কস বলেন, ‘চীনসহ বিভিন্ন দেশ শুল্ক না দিয়ে সস্তা পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে, যা আমেরিকান ব্যবসার জন্য হুমকি।’
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই পরিবর্তনের ফলে ই-কমার্স কোম্পানিগুলোকে তাদের মূল্য নির্ধারণ কাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিপমেন্ট হ্রাস এবং বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে