Views Bangladesh Logo

৫০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক সূচক সর্বনিম্ন: দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। একই সময়ে দেশটির ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও হুমকির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আইনের শাসনও বড় ধরনের চাপে পড়েছে। তবে হতাশাজনক এই বৈশ্বিক চিত্রের মধ্যেও বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশে গণতান্ত্রিক অগ্রগতির কিছু লক্ষণ দেখা গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) তাদের বার্ষিক ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ১৭৪টি দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ১৯৭৫ সাল থেকে বিভিন্ন সূচকের পরিবর্তন মূল্যায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ—এসব সূচক অন্তত গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সাল ছিল টানা ১১তম বছর, যখন গণতান্ত্রিক অগ্রগতির তুলনায় অবনতির শিকার দেশের সংখ্যা বেশি ছিল। ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার গবেষণার ইতিহাসে এটাই গণতান্ত্রিক অবনতির সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিকতা।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত নির্বাহী শাখায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেছেন এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আইনের শাসন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্রতা ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা বলেন, গণতন্ত্রের অবনতির সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে গণতন্ত্রে বিনিয়োগ থাকা প্রয়োজন। কারণ গণতন্ত্রের মান কমে গেলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়ে। আপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের তথ্যও বলছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত সহিংসতা ১৯৪৬ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের কথাও উঠে এসেছে। সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতন, অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিক সমাজের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা নেতাদের অপসারণকে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব দেশে দ্রুত ও অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়ন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া জানিয়েছে, ২০২৫ সালে গণতন্ত্রের সবচেয়ে দুর্বল ক্ষেত্র ছিল আইনের শাসন। মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৭১টি, অর্থাৎ ৪১ শতাংশ দেশে এ সূচকের অবস্থান নিম্নমানের ছিল। একই সময়ে ২৯টি দেশে আইনের শাসনের সূচকে অবনতি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মহাসচিব বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করছে। তবে তিনি মনে করেন, গণতন্ত্রের এই অবনতিকে অনিবার্য বা স্থায়ী হিসেবে দেখার কারণ নেই; রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ ধারা উল্টে দেওয়া সম্ভব।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ