Views Bangladesh Logo

আদালতের রায়ে থমকে গেল ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ‘বলরুম’ নির্মাণ প্রকল্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ভবন হোয়াইট হাউসের পূর্বপাশে ৪০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিতব্য বিশাল ‘বলরুম’ প্রকল্পে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইউ.এস. কোর্ট অব অ্যাপিলস ফর দ্য ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিটের তিন সদস্যের বেঞ্চ দুই-এক ভোটে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিটি প্রেসিডেন্টই হোয়াইট হাউসের সাময়িক বাসিন্দা মাত্র, মালিক নন। বিশালাকৃতির কোনো বলরুম নির্মিত হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত একান্তভাবেই কংগ্রেসের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়, নির্বাহী বিভাগ একতরফাভাবে তা ঠিক করতে পারে না। তবে ভূগর্ভস্থ অংশের কাজ, অর্থাৎ প্রেসিডেন্সিয়াল বাংকার নির্মাণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি বহাল রেখেছেন আদালত।

গত বছর অক্টোবরে মাত্র তিন দিনের মধ্যে হোয়াইট হাউসের পূর্বাংশ (ইস্ট উইং) সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কংগ্রেসের অনুমোদন কিংবা প্রতিশ্রুত পরামর্শ প্রক্রিয়া ছাড়াই বেসরকারি তহবিলে প্রায় ৯০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বলরুম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তোলে ঐতিহ্য সংরক্ষণবাদীরা। এই প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর হিস্টোরিক প্রিজারভেশন নামের একটি বেসরকারি সংগঠন, এবং নিম্ন আদালতের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাই বহাল রাখেন আপিল আদালত।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ট লেগস বলেন, হোয়াইট হাউসের মতো বৈশ্বিক প্রতীক নিয়ে নিজেদের মতামত জানানোর অধিকার আমেরিকার জনগণের রয়েছে, আর এই রায় সেই অধিকারকেই স্বীকৃতি দিল।

অন্যদিকে রায়ের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই স্থাপনা নিছক বলরুম নয়, বরং একটি নিরাপত্তা কেন্দ্র—যেখানে থাকবে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা সুবিধা এবং ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সুরক্ষাব্যবস্থা। আদালতের এই রায়কে ‘অন্যায্য’, ‘ভয়াবহ’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এর ফলে তিনি নিজে, হোয়াইট হাউসের কর্মী ও দর্শনার্থীরা ঝুঁকিতে পড়বেন।

আপিল আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদনের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে সময় রয়েছে আগামী ১৪ দিন। এই সময়ের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা না হলে আপিল আদালতের রায়কেই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে। তবে ট্রাম্প ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করবেন এবং প্রত্যাশা করছেন, আপিল আদালতের এই ‘অন্যায্য’ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বাতিল করবেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা।

সূত্র : রয়টার্স

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ