বিশ্বে প্রথম ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধক এমআরএনএ প্রযুক্তির ফ্লু টিকার অনুমোদন
করোনাভাইরাসের টিকার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধেও এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা তৈরি করে চমক দেখাল যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না। গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘এমফ্লুসিভা’ নামের এই টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। বিশ্বে এটিই প্রথম কোনো এমআরএনএ ভিত্তিক ফ্লু টিকা, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেল।
মডার্নার তৈরি এই টিকায় ব্যবহৃত হয়েছে মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি, যা এর আগে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। এই প্রযুক্তিতে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সরবরাহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সিদের জন্য সম্পূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে টিকাটি। এ ছাড়া ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্যও একটি ত্বরান্বিত বা সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তবে এই বয়সীদের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণে মডার্নাকে অতিরিক্ত একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানোর শর্তও দিয়েছে এফডিএ।
প্রায় ৪১ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত তৃতীয় পর্যায়ের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় এমফ্লুসিভা প্রায় সাড়ে ২৬ শতাংশ বেশি কার্যকর। গবেষকদের দাবি, এই টিকা শরীরে তুলনামূলক বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক ধরনের সংক্রমণ প্রতিরোধেও কার্যকর হতে পারে। মডার্না জানিয়েছে, চলতি বছরের ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য জনগোষ্ঠীর কাছে টিকাটি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় এমআরএনএ প্রযুক্তির এই টিকা তুলনামূলক কম সময়ে উৎপাদন করা সম্ভব বলেও দাবি প্রতিষ্ঠানটির—নির্দিষ্ট মৌসুমের সংক্রমণকারী ভাইরাসের ধরন শনাক্তের পর মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই টিকা প্রস্তুত করা সম্ভব, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় প্রায় অর্ধেক সময়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রবীণদের ক্ষেত্রে গুরুতর ও কখনো কখনো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরাই নিউমোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন এবং এই বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি।
গবেষকদের প্রত্যাশা, এমআরএনএ প্রযুক্তির এই ফ্লু টিকা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের মধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে গুরুতর সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হারও কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে এই টিকা।
মতামত দিন