Views Bangladesh Logo

হল-মার্ক গ্রুপের অর্থ আত্মসাৎ

তাদের কী হবে? তারা কোথায়? তারা কারা?

ল-মার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তানভীর মাহমুদ এবং তার স্ত্রী জেসমিন ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় এই দুজনের সঙ্গীদেরও নানা মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। রায়ের পর আমাদের মতো সাধারণ মানুষের খুশির আর সীমা নেই।

মনে হচ্ছে রাষ্ট্রের ব্যাংক ফাঁকা করে দেয়ার উচিত শিক্ষা দিয়েছেন আদালত; কিন্তু এখানেই কি শেষ! আচ্ছা যে টাকাগুলো হল-মার্ক লুট করে নিয়ে গেল, সেই টাকার কি হলো? আবার কি সেই ব্যাংকে ফিরে আসবে। অথবা সেই টাকা কি শুধু হল-মার্ক আর ব্যাংক কর্মকর্তা আর তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পকেটে গেছে। না কি এই টাকার ভাগ আরও অনেক ওপর পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাদের নাগাল পাওয়া কঠিন। আচ্ছা তাদের কী হবে? তারা কোথায়? তারা কারা? এমন প্রশ্ন করার অধিকার কি আমাদের নেই।

আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন একজন তানভীর মাহমুদ অথবা একজন জেসমিন ইসলামের একার পক্ষে কোনো ব্যাংক থেকে এক-দুই কোটি দশ কোটি টাকা ঋণ নেয়া সম্ভব; কিন্তু সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়া সম্ভব নয়। এর পেছনে নিশ্চই এমন সব মানুষ রয়েছেন, যাদের স্পর্শ করা যায় না। ছোঁয়া যায় না। এমনকি কোনো মামলার এজাহারে তাদের নাম পাওয়া যায় না। চার্জশিট তো অনেক দূরের বিষয়। যেহেতু তাদের নামে মামলাও হয় না চার্জশিটও দেয়া সম্ভব নয়, সেহেতু আমরা তাদের কথা কেউ জানতে পারি না।

তানভীর মাহমুদ গংরা যে ব্যাংক থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন, সেই ব্যাংকটি আমার আপনার ব্যাংক। রাষ্ট্রীয় সোনালী ব্যাংক পিএলসি।

এই মামলায় আরও যাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে তানভীরের ভায়রা হল-মার্কের জেনারেল ম্যানেজার তুষার আহমেদ। কোন তুষার চিনেছেন তো। এই তুষার করোনার মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারের মধ্যে এক নারীর সঙ্গে একান্ত সময় পার করেন। এ ছবি ভাইরাল হলে কারা কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। তাহলে কি বুঝতে বাকি থাকে এরা যে টাকা লুট করেছিল, এখনো তাদের পকেটে সেই টাকা রয়ে গেছে, যা দিয়ে কারাগারের মধ্যেও নারী জোগাড় করা যায়। আর সহকারী জেলারের রুমেই মাস্তি করা হয়।

সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী উপমহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, প্যারাগন গ্রুপের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা, নকশী নিটের এমডি মো. আবদুল মালেক এবং টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর ৪২০ ও ১০৯ ধারায় তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বাকি আসামিদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ডিএমডি মাইনুল হক, ডিজিএম মো. সফিজউদ্দিন আহমেদ, সোনালী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার বর্তমান জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি, সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম মীর মহিদুর রহমান, এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান, জিএম ননী গোপাল নাথ ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবিরকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর ৪২০ ও ১০৯ ধারায় তাদের সাত বছর করে কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আসামিদের লিস্ট যদি দেখা হয়, তাহলে সোনালী ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায় অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরও সাজা হয়েছে; কিন্তু বোর্ড গেল কোথায়? এত বড় ৫২৬ কোটি টাকার ঋণ কি এককভাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে দেয়া সম্ভব। কোনো না কোনো বোর্ড মিটিংয়ে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। বোর্ড সম্মত হয়েছে বলেই তো ঋণ মিলেছে। তাহলে তাদের নাম কেন এলো না! আমরা এই আলোচনা এ জন্য করছি যে, বোর্ড বা পরিচালনা পর্ষদ বলে একটি বিষয় আছে- এমন সেটিকে চাইলে ধরা যায়।

কিন্তু বিষয় হচ্ছে এর বাইরেও এত বড় বড় ঋণ পেতে হলে এমন কিছু না কিছু থাকতে হয়, যেটা হলমার্কের ছিল। সেটা হচ্ছে প্রভাব। এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তানভীর মাহমুদের জন্ম দেয়। ক্রিম খেয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেলে। তাদের না ছোয়া যায়, না ধরা যায়। এরা ব্যাংকের কোনো কিছুতেই নেই, তারপর হয় টেলিফোন করে, না হলে সরাসারি গিয়ে তদবির করে। কিছু না কিছু করে বলেই হল-মার্করা এত বড় ঋণ পায়। একটা হল মার্ক শেষ হলে এরা আরেকটা হল-মার্কের ঠিকাদারি ধরে। আমরা বলছি, তাদের কথা। তাদের কী হবে? তারা কোথায়? তারা কারা? এই তিন প্রশ্নের যত দিন সুরাহা না হবে, তত দিন হল-মার্ক, তানভীর, জেসমিনরা ঘুরে ফিরে আসবেই।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ