Views Bangladesh Logo

দাবানল ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়াবে এল নিনো, জাতিসংঘের সতর্কবার্তা

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান দাবানল, তীব্র তাপপ্রবাহ ও অস্বাভাবিক আবহাওয়ার মধ্যেই আরও বড় জলবায়ু ঝুঁকির সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যার প্রভাবে খরা, দাবানল, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এল নিনো দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করছে। আগস্ট থেকে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধের শরৎকাল পর্যন্ত এটি ক্রমেই শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বহু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগে থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠা পৃথিবীতে এল নিনো যেন নতুন করে আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব মিলিত হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরার আশঙ্কা থাকলেও অন্য কোথাও অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পানি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও কানাডার বিস্তীর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বড় বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণকে আরও কঠিন করে তুলছে। জলবায়ুবিদদের আশঙ্কা, এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং নতুন নতুন এলাকাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেছেন, উন্নত পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কবার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তা বাস্তব প্রস্তুতি ও দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকল্পনায় রূপ দেবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষায় এখন থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, কেবল জরুরি প্রস্তুতি নয়, দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায়ও এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ