নাগরিকদের তিন দিনের জরুরি রসদ মজুতের পরামর্শ যুক্তরাজ্যের
সাইবার হামলা, ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়া, তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও দাবানলের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের ঘরে অন্তত তিন দিনের প্রয়োজনীয় রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বি রেডি’ (প্রস্তুত থাকুন) নামে একটি সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করেছে দেশটির সরকার।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় বোতলজাত পানি ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, পানি, ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হলে যেন পরিবারগুলো প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তাত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। ওই ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ সাইবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এতে বেশ কিছু অনলাইন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনা জরুরি পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন সেবার ওপর মানুষের নির্ভরতা এবং বিকল্প প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, অতীতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি অনেক সময় পিছিয়ে থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এখন থেকে সংকট দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক গ্রীষ্মে রেকর্ড তাপমাত্রা, খরা ও দাবানলের অভিজ্ঞতার পর আগুন মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনায় প্রয়োজনে সামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজলভ্যতার কারণে ভবিষ্যতে সাইবার হামলার ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, এআইয়ের সাহায্যে প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা শনাক্ত করা সহজ হচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈরী রাষ্ট্র, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনায় শুধু খাবার ও পানিই নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হতে পারে এমন আরও কিছু সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, চার্জ দেওয়া পাওয়ার ব্যাংক, ব্যাটারিচালিত বা হাতে ঘোরানো রেডিও, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কিছু নগদ অর্থ। বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক লেনদেন বন্ধ হয়ে গেলে এসব সামগ্রী কাজে আসতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, একসঙ্গে সবকিছু কেনার প্রয়োজন নেই। পরিবারের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা যেতে পারে। এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়, বরং জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের প্রস্তুত রাখা এবং উদ্ধারকর্মীদের ওপর চাপ কমানো।
এর আগে ইউরোপীয় কমিশনও সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, নগদ অর্থ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের নতুন কর্মসূচিটিও একই ধরনের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
মতামত দিন