রুশ ড্রোন উৎপাদনকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনতে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ব্যাহত করতে এবং বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদেরকে রুশ বাহিনীতে ‘কামানের খোরাক’ হিসেবে ব্যবহারে লিপ্ত থাকা মানবপাচারকারী চক্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।
সোমবার (৪ মে) ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী চেইন, ড্রোন নির্মাণ খাত এবং মানবপাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে মিশর, ইরাক, নাইজেরিয়া, মরক্কো, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলো থেকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে অভিবাসীদের পাচার করে আসছিল একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক। কিন্তু রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে জোরপূর্বক ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয় অথবা রুশ অস্ত্র কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
রাশিয়াকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও কৌশলগত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের দায়ে থাইল্যান্ড ও চীনের মতো তৃতীয় দেশের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি এই পুরো প্রক্রিয়াকে ‘বর্বর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়া অসহায় মানুষকে মানুষকে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কামানের খোরাক’ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
ডাউটি বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম উন্মোচিত ও ব্যাহত হবে, যারা নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জন্য পুতিনের ড্রোন কারখানায় অবৈধ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে এবং অভিবাসীদের পাচার করছে।’
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের তালিকায় অন্যতম প্রভাবশালী নাম পাভেল নিকিতিন, যার কোম্পানি রাশিয়ার বহুল আলোচিত ‘ভিটি-৪০’ অ্যাটাক ড্রোন তৈরি করে। এছাড়া বিদেশিদের সংগ্রহ করে নূন্যতম প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পরিকল্পনাকারী হিসেবে পলিনা আলেকজান্দ্রোভনা আজারনিখ নামের এক নারীর ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ইউক্রেনে প্রতিদিন গড়ে ২০০টিরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এক মাসের হিসেবে সর্বোচ্চ। এপ্রিল মাসে এই হামলার তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে লন্ডন। এই প্রেক্ষাপটে ড্রোন সরবরাহ চেইন ভেঙে দেওয়া এবং ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।
মূলত ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ আইনের অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মানবপাচার ও এর আর্থিক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে কাজ করে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে