ওপেক ছাড়ার ঘোষণা আরব আমিরাতের
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সদস্য থাকার পর হঠাৎ করেই তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ১ মে থেকে, যা জোটটির কার্যত নেতৃত্বদানকারী সৌদি আরবের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিয়েনায় ওপেকের বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে এ ঘোষণা আসায় জোটের ভেতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ওপেক নিজেদের ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করে এসেছে, কিন্তু আমিরাতের এই প্রস্থান সেই ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।
আমিরাতের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও ভবিষ্যৎ সক্ষমতা পুনর্মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটি বলছে, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী আরও নমনীয়ভাবে কাজ করার লক্ষ্যেই তারা এই পথে হাঁটছে।
বর্তমানে আমিরাতের অর্থনীতিতে তেল খাতের বাইরে অন্যান্য খাতের অবদান প্রায় ৭৫ শতাংশ। তেলনির্ভরতা কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তারা ২০২৭ সালের মধ্যে দৈনিক তেল উৎপাদন ৩৪ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তেল পরিবহনকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ববাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ওপেক জোটকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে।
এছাড়া ইরান যুদ্ধের সময় আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষও এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমিরাতের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়াকে দুর্বল হিসেবে আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে