ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকাস্যুরেন্স বিষয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও বিমা খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, গ্রাহকবান্ধব বিমা সেবা সম্প্রসারণ এবং ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে "বাংলাদেশে ব্যাংকাস্যুরেন্স : আইনগত প্রস্তুতি, কার্যক্রম পরিচালনা ও বিক্রয় সক্ষমতা" শীর্ষক দুই দিনব্যাপী নিবিড় কর্মশালা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার অব প্রফেশনাল ব্যাংকিং (এমপিবি) প্রোগ্রাম এবং ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেড যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করেছে। ১০ ও ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের নবম তলায় অবস্থিত প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস হলে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মাইন উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট মো. রাশেদ আকতার, এমপিবি প্রোগ্রামের সমন্বয়ক প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এবং ব্যাংকার্স ক্লাব অব বাংলাদেশ লিমিটেডের লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান (আরিয়ান)। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি, বিমা সেবার পরিধি সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য সহজ, উপযোগী ও নির্ভরযোগ্য বিমা পণ্য নিশ্চিত করতে ব্যাংকাস্যুরেন্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় মোট আটটি বিশেষায়িত সেশনের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিনের সেশনগুলোতে বাংলাদেশের ব্যাংকাস্যুরেন্স খাতের বর্তমান অবস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক কাঠামো, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মডেল, চুক্তি প্রণয়ন এবং বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির উপযোগী বিমা পণ্য নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দিনে ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রমের পরিচালন প্রস্তুতি, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সমন্বয়, কেওয়াইসি ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা, প্রিমিয়াম সংগ্রহ, দাবি নিষ্পত্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, ভুল বা বিভ্রান্তিকর বিক্রয় প্রতিরোধ, বিক্রয়কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি ও কর্মদক্ষতা পরিমাপক বা কেপিআই নিয়ে আলোচনা করা হবে।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক ও আলোচক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রফেসর ড. মো. মাইন উদ্দিন, মোহাম্মদ আশফাকুর রহমান, এস. এম. ইব্রাহিম হোসাইন, শুভাশীষ বড়ুয়া, মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, প্রফেসর ড. হাসিনা শেখ, মো. রাশেদ আকতার এবং সুবীর কুমার কুন্ডু।
আয়োজকরা জানান, বক্তৃতা ও আলোচনার পাশাপাশি কর্মশালায় বাংলাদেশভিত্তিক কেস স্টাডি, দলীয় আলোচনা, গ্রাহকের প্রয়োজন বিশ্লেষণভিত্তিক ভূমিকাভিনয়, নিয়ন্ত্রক নথি পর্যালোচনা এবং দলীয় উপস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম চালুর চেকলিস্ট, কেপিআই ড্যাশবোর্ড এবং পণ্য উপযোগিতা নির্ধারণের ম্যাট্রিক্সসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংকাস্যুরেন্সের নিয়ন্ত্রক শর্তাবলি অনুধাবন, কার্যকর অংশীদারত্ব চুক্তি প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত ও পরিচালন অবকাঠামো প্রস্তুত, গ্রাহক সুরক্ষা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি এবং পরিমাপযোগ্য সূচকসহ একটি টেকসই ব্যাংকাস্যুরেন্স কার্যক্রম চালুর রোডম্যাপ প্রস্তুতের বাস্তব জ্ঞান অর্জন করবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।
কর্মশালায় সফলভাবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আগামী ১৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনদপত্র বিতরণ করা হবে।
মতামত দিন