ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই হাজতির মৃত্যু, ঢামেকে স্বজনদের হট্টগোল
কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৃথক ঘটনায় দুই হাজতির মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজনের বুকে ব্যথা ওঠার পর মৃত্যু হয়। অন্যজন ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত’ হয়ে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই হাজতির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকালে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে মেহেদী হাসান কাজীর স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানালে হাসপাতাল চত্বরে কারারক্ষী ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মারা যাওয়া দুই হাজতি হলেন নোয়াখালীর রফিকুল ইসলাম (৫৯) ও মাদারীপুরের মেহেদী হাসান কাজী (১৯)।
কারারক্ষী হারুন শেখ জানান, শনিবার দুপুর ৩টার দিকে রফিকুল ইসলামের বুকে ব্যথা শুরু হয়। অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর ধারণা, স্ট্রোকে রফিকুলের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে কোন মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি এই কারারক্ষী।
রফিকুল ইসলাম নোয়াখালীর কবিরহাট থানার নতুন বাড়ি এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে।
অন্য হাজতি মেহেদী হাসান কাজী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছেন কারারক্ষী সাহাবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মেহেদী সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
সাহাবুল ইসলাম জানান, জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা মেহেদীকে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে আবার জরুরি বিভাগে ফিরিয়ে আনা হলে বিকাল ৫টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেদী হাসান মাদারীপুরের শিবচর থানার উত্তর কাজীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ফারুক কাজীর ছেলে।
মেহেদীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের দাবি জানান। এ নিয়ে কর্তব্যরত কারারক্ষী ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মেহেদীর ভাই সাঈদ কাজী অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ভাই এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। সাত মাস আগে একটি মিথ্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
মতামত দিন