আসন ঢাকা-১৬ থেকে ২০
দুই আসনের বিজয় আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকার আসনসংখ্যা ছিল ১৩টি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরও সাতটি আসন বৃদ্ধি করা হয়। ফলে ২০০৮ সালের পর আর আসনগুলোতে জমজমাট ভোট হয়নি। তবে এসব জায়গা আগেও ঢাকার অন্য আসনের মধ্যে ছিল। এবার বিএনপি ভোট বর্জন করাতে আওয়ামী লীগ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও দুটি আসনে স্বতন্ত্রই কাটা হতে পারে।
ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ এবারও ঢাকা-১৬ এর প্রার্থী
ঢাকা-১৬
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই থেকে ছয় নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৬ আসন। এই আসনটি বরাবরাই আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। আসটিতে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০৮ থেকে এখনো তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে আসনটি ধরে রেখেছেন। আওয়ামী লীগের নৌকার মাঝি এবারও ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ। এ ছাড়া এই আসটিতে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে আমানত হোসেন, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের টেলিভিশন নিয়ে সজীব কায়সার, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা নিয়ে তৌহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস্ এনপিপির আম নিয়ে তারিকুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন রবিন এর প্রতীক ঈগল।
ঢাকা-১৬তে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯২ জন, নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৪৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৯ জন ভোটার রয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৮ সালে এখান থেকে ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ বিএনপির আহসান উল্লাহ হাসানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র পার্থী সরদার মো. মান্নান। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহই এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার এই আসনে বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির রফিকুল ইসলাম।
আরাফাত টিকে গেল ঢাকা-১৭ আসনে
ঢাকা-১৭
চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান, যিনি ফারুক নামেই সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। তিনি ২০১৮ সালে ঢাকা ১৭ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকার সব চাইতে অভিযাত এলাকা গুলশান, বনানী এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে আসনটির অবস্থান। এখানে ২০০৮ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ নির্বাচন করতেন। তবে ২০১৪ সালে আসনটি বিএনএফকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। গত বছরের ১৫ মে ফারুকের মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হলে এখানে মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী ঘরানার আরাফাত দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শেখ পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে আরাফাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা সবারই জানা রয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ওয়ার্ড ছাড়াও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে এই আসনটি গঠিত। আসটিতে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৩৫ জন ভোটার। পুরুষ ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৮৩ জন, নারী ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৫ জন ভোটার রয়েছে। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের টেলিভিশন নিয়ে এস এম আবুল কালাম আজাদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশের কুলা নিয়ে আইনুল হক স্বতন্ত্র প্রর্থী আরাফাত আশওয়াদ ইসলাম বেলুন, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ কাজী শফিউল বাশার, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপির আম নিয়ে গোলাম ফারুক মজনু, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা নিয়ে শাহ আলম নির্বাচন করছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফারুকের কাছে হেরে যান জাতীয় পার্টি জেপিপ্রধান আন্দালিব রহমান পার্থ। যদিও ভোটের দিনের মাঝপথেই পার্থ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ আসনটি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান মৃধা। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি থেকে নির্বাচন করেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার সঙ্গে নির্বাচনে হেরে যান বিএনপির এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা হান্নান শাহ।
আওয়ামী লীগ জোটকে ছেড়েছে ঢাকা-১৮
জয় নিয়ে তাও সংশয়!
ঢাকা-১৮
ঢাকা ১৮ থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সহধর্মিণী শেরিফা কাদেরকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনি জি এম কাদেরের উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় পার্টিতে রয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি একটি জেলার জাতীয় পার্টির সভাপতি। আসনটিতে নৌকার প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর আগে তিনি সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তবে এবারই তিনি সরাসারি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচন করছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ০১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ঢাকা বিমানবন্দর উপজেলা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আসনটিতে কল্যাণ পার্টির হাতঘড়ি নিয়ে দয়াল কুমার বড়ুয়া, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের টেলিভিশন নিয়ে এস এম আবুল কালাম আজাদ, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপির আম প্রতীক নিয়ে জাকির হোসেন ভূঁইয়া, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোটের ছড়ি নিয়ে ফাহ্মিদা হক সুকন্যা, তৃণমূল বিএনপি সোনালী আঁশ মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র বশির উদ্দিন ঈগল, নাজিম উদ্দিন মোড়া, তোফাজ্জেল হোসেন ট্রাক, খসরু চৌধুরী কেটলি নিয়ে নির্বাচন করছেন।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ১ হাজার ৯০৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ৬ জন ভোটার রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিলেও এখানে আওয়ামী লীগের শক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়ে গেছে। ভোটের মাঠে তিনি এখনো পর্যন্ত শেরিফা কাদেরকে এক বিন্দুও ছাড় দিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে ঢাকা-১৮ তে জটিল সমীকরণ হবে।
মুরাদ জং নাকি আবারও এনামুর রহমান?
ঢাকা-১৯
রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর আহত আর নিহতদের পাশে দাঁড়িয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্ণধার ডা. এনামুর রহমান। তিনি এই আসনটিতে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর আবার তিনিই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০১৮ সালে; কিন্তু এই আসনে আওয়ামী লীগের মুরাদ জং এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এনামুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। সাভার উপজেলার আমিনবাজার, তেঁতুলঝড়া, ভাকুর্তা ও কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৯ জন, নারী ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন ভোটার রয়েছেন।
তৃণমূল বিএনপির প্রতীক সোনালী আঁশ নিয়ে মাহাবুবুল হাসান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব নিয়ে মিলন কুমার ভঞ্জ, স্বতন্ত্র মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ট্রাক, গণফ্রন্টের মাছ নিয়ে নূরুল আমীন, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি-এনপিপির আম প্রতীক নিয়ে ইসরাফিল হোসেন সাভারী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা নিয়ে জুলহাস, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএমের নোঙ্গর নিয়ে সাইফুল ইসলাম মেম্বার, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কাঁঠাল নিয়ে আইরীন পারভীন রয়েছেন ভোটের মাঠে।
বেনজীর কি এবার পারবেন!
ঢাকা-২০ আসন
২০১৪-তে ভরসা না করলেও ২০০৮ এবং ১৮-তে ঢাকা-২০ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন বেনজীর এবারও তিনিই আসনটিতে নৌকার মাঝি। ধামরাই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ তে আসনটি থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ মালেক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এম এ মালেক ট্রাক প্রতীক নিয়ে এবার দলীয় প্রার্থী বেনজীরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
বেনজীর আহমেদের সঙ্গে এবার নির্বাচনে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোটের ছড়ি নিয়ে আমিনুর রহমান, স্বতন্ত্র মোহাদ্দেছ হোসেনের প্রতীক কাঁচি, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল নিয়ে খান মোহাম্মদ ইসরাফিল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা নিয়ে মিনহাজ উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির আম নিয়ে রেবেকা সুলতানা নির্বাচন করছেন। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ২০ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬০, নারী ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের কোনো ভোটার নেই।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে