Views Bangladesh Logo

সৌদি সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালাবে না তুরস্ক

ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নতুন অগ্রগতির মুখে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। তবে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’র আওতায় যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এই সহায়তা সীমিত রাখা হবে। ইয়েমেন সংঘাতে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ে জড়াবে না আঙ্কারা।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত মক্কা চুক্তিতে কোনো এক দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের বদলে প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে তুরস্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তুর্কি কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরবে চুক্তিটির বাস্তবভিত্তিক সদর দপ্তর স্থাপন এবং যৌথ পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে নজর দিচ্ছে আঙ্কারা।

সম্প্রতি হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগত শহর মোখা এবং লোহিত সাগরের হানিশ ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিচালিত হয়। হুথিদের এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানালেও তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তুরস্ক।

ইবনে খালদুন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সহকারী অধ্যাপক গোকহান এরেলি বলেন, হুথিদের এই নিয়ন্ত্রণ সম্ভবত স্থায়ী নয় এবং ইয়েমেনের অন্যান্য অঞ্চলের মতো তাদের দখলও ভঙ্গুর। দীর্ঘদিন হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার পর সৌদি আরবও বুঝতে পেরেছে যে শুধু সামরিক উপায়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। এ কারণে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হুথিদের সঙ্গে সংলাপের একটি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এরেলি বলেন, সৌদি আরব হুথিদের হুমকির বিরুদ্ধে সম্মিলিত ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে তাদের একা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে না হয়। মক্কা চুক্তির মাধ্যমে তুরস্কের ভূমিকা এই যৌথ প্রচেষ্টারই অংশ।

তবে সিরিয়ার মতো ইয়েমেনে সরাসরি সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন অপর এক তুর্কি জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এটি সিরিয়া নয়। সিরিয়া ছিল আমাদের স্থলসীমান্ত এবং সেখানে লজিস্টিকস সহজ ছিল।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংকটের মধ্যে তেহরানের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রক্সি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে ইরানকে ভুল বার্তা দিতে চায় না তুরস্ক।

এর পরিবর্তে আগস্টে সৌদি আরব ঘোষিত লোহিত সাগর নৌ টাস্কফোর্সে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে আঙ্কারা। সেখানে তুর্কি যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হলেও হুথিদের ওপর হামলা চালানোর সম্ভাবনা নেই বলে ওই কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তুরস্কের বেসামরিক বা সামরিক জাহাজ কিংবা তুরস্কগামী পণ্যবাহী জাহাজ আক্রান্ত না হচ্ছে, ততক্ষণ আঙ্কারা কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অনাবাসিক স্কলার নাদওয়া আল-দাওসারি অবশ্য মনে করেন, হুথি হুমকি মোকাবিলার একমাত্র পথ হলো ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা। তবে এর ফলে সৌদি বিমান সুরক্ষার পাশাপাশি নিজেদের অবকাঠামোতে নতুন করে হুথি হামলার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তি তুরস্কের সংসদে অনুমোদিত হয়নি। পাকিস্তানের মতো তুরস্কও চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা থাকা সত্ত্বেও সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান নেওয়ায় মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা ও বাস্তব মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্র: আল মনিটর

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ