Views Bangladesh Logo

দ্রুত কাউন্টার আক্রমনই ভরসা তিউনিসিয়ার

উত্তর আফ্রিকার দল তিউনিসিয়ার ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বর্তমান অবস্থান ৪০। দলটি সংগঠিত ডিফেন্স, শৃঙ্খলাবদ্ধ খেলা ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। রক্ষণভাগ শক্ত রেখে দ্রুত আক্রমণে ওঠাই তাদের মূল কৌশল।

বিশ্বকাপে অতীত রেকর্ড ও অংশগ্রহণ
তিউনিসিয়া বিশ্বকাপে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী আফ্রিকার অন্যতম দল। ১৯৭৮ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা ইতিহাস গড়ে, যখন মেক্সিকোর বিপক্ষে জয় পেয়ে বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম জয় তুলে নেয়। তবে এখনো তারা নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি। তবুও ধারাবাহিক অংশগ্রহণ তাদের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।

শক্তিমত্তা

তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয়। ডিফেন্সে তারা খুবই সংগঠিত এবং প্রতিপক্ষকে সহজে জায়গা দেয় না। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের মাধ্যমে তারা হঠাৎ আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। মাঝমাঠে বল কাড়ার পর দ্রুত উইং দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলায় তারা দক্ষ। দলগতভাবে খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, যা তাদের কঠিন ম্যাচেও টিকে থাকতে সাহায্য করে।

দুর্বলতা
তবে তিউনিসিয়ার কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। আক্রমণে ধারাবাহিক গোল করার মতো শক্তিশালী ফিনিশারের অভাব দেখা যায়। বড় দলের বিপক্ষে বল দখল ধরে রাখতে তারা অনেক সময় ব্যর্থ হয়। এছাড়া মাঝমাঠে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকায় সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ বল দখলে নিয়ে খেললে তিউনিসিয়া অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলে।

গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়
বর্তমান দলে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছেন। গোলপোস্টে আইমেন দাহমেন দলের নির্ভরযোগ্য ভরসা। ডিফেন্সে ইয়াসিন মেরিয়াহ রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেন। জার্মানির ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট-এর হয়ে খেলা এলিয়েস স্কিরি মাঝমাঠে দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। আক্রমণে ওয়াহবি খাজরি অভিজ্ঞতা দিয়ে গোল করার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া হানিবল মেজব্রি তরুণ প্রতিভা হিসেবে মাঝমাঠে সৃজনশীলতা এনে দেন।

গ্রুপ প্রতিপক্ষ
এফ গ্রুপে তিউনিসিয়ার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ধরে রাখা খুব কঠিন হবে। জাপানের দ্রুতগতির খেলা সামাল দেওয়াও কঠিন হতে পারে। আর সুইডেনের বিপক্ষে শারীরিক লড়াই, বাতাসে ভেসে আসা বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ও সেট-পিস মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই গ্রুপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন, তাই নকআউট পর্বে যেতে হলে তিউনিসিয়াকে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

এবারের বিশ্বকাপে সম্ভাবনা
বিশ্বকাপে তিউনিসিয়াকে অনেক সময় আন্ডারডগ হিসেবে দেখা হয়। তবে তারা যদি তাদের সংগঠিত ডিফেন্স ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে, তাহলে বড় দলগুলোর বিপক্ষেও চমক দেখাতে পরে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে এবারের বিশ্বকাপে তারা নকআউট পর্বে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ