প্রকাশ্য বিবাদে ট্রাম্প ও মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সরকার পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে গঠিত সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই)-এর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ও টেসলা-স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক। এরপর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের সম্পর্ক তিক্ততার দিকে মোড় নিয়েছে এবং এখন তা প্রকাশ্য বিবাদে রূপ নিয়েছে।
হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইলনের সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক ছিল। সেটা আর থাকবে কি না, জানি না। আমি অত্যন্ত হতাশ। তিনি আমাদের সবার চেয়ে ভালো জানতেন বিলটির খুঁটিনাটি, অথচ হঠাৎ করেই তার আপত্তি দেখা দিল।
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, ইলন মাস্কের সাম্প্রতিক আচরণে তিনি খুবই ক্ষুব্ধ। অপরদিকে, মাস্ক স্যোশাল মিডিয়া এক্স-এ একের পর এক পোস্টে ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করছেন।
এক পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, আমি না থাকলে ট্রাম্প নির্বাচনে হেরে যেতেন। ডেমোক্র্যাটরা হাউজ দখল করত, আর রিপাবলিকানরা সেনেটে মাত্র ৫১-৪৯ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ত। আমি ২৭ কোটি ডলার খরচ করেছিলাম ট্রাম্পের নির্বাচনে জেতানোর জন্য। আর এখন তিনি অকৃতজ্ঞের মতো আচরণ করছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে ইলন মাস্কের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি শুধু বড় দাতাই নন বরং ট্রাম্পের নীতিগত অংশীদার হিসেবেও কাজ করেছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মাস্কের জন্য আলাদা একটি সরকারি দপ্তর তৈরি করেছিলেন—ডিওজিই, যার লক্ষ্য ছিল প্রশাসনের ব্যয় সংকোচন ও কার্যকারিতা বাড়ানো।
তবে সব কিছু পাল্টে যায় গত মাসে কর ও ব্যয় সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত বিল নিয়ে। বিলটি নিয়ে মাস্কের বিরোধিতার কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ট্রাম্প সেই বিলকে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ বলে আখ্যা দেন, যা মাস্কের মতে, অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে