যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে ১০ থেকে ১৫ দিনের সময় দিলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের হাতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে। তা না হলে আরও সামরিক হামলার মুখে পড়তে পারে দেশটি।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘বোর্ড অব পিস’-এর উদ্বোধনী বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, গত বছরের জুনে ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাই গাজায় “বিরতি” বা যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করেছিল। তার মতে, ইরানের হুমকি না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা সহজ হতো।
তিনি বলেন, “এখন হয়তো আমাদের আরও এক ধাপ এগোতে হবে, আবার নাও হতে পারে। হয়তো একটি চুক্তি হবে। আগামী প্রায় ১০ দিনের মধ্যেই তা জানা যাবে।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনার কয়েকদিন পর। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, জেনেভায় আলোচনায় “ভালো অগ্রগতি” হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির জন্য কিছু মৌলিক নীতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
তবে একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে। সেখানে দুইটি বিমানবাহী রণতরী ও ডজনখানেক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা অস্বীকার করে বলেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে এবং কঠোর আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় আনতে রাজি। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের কোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণই মেনে নিতে নারাজ। পাশাপাশি ওয়াশিংটন তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ করতে চাইলেও ইরান এটিকে তাদের “অপরিবর্তনীয় প্রতিরক্ষা নীতি” বলে ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, তার কূটনৈতিক উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “অর্থবহ চুক্তি না হলে খারাপ কিছু ঘটবে।”
গত সপ্তাহেও ট্রাম্প এক মাসের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে খুবই ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ইরান এসব হুমকির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ডিসেম্বর মাসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা হলে আবার হামলার প্রতিশ্রুতি দেন।
কিছুদিন পর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে “সহায়তা আসছে” বলে মন্তব্য করেন।
গত মাসে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান ভিন্নমতাবলম্বীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে রাজি হওয়ায় তিনি হামলা থেকে সরে এসেছেন। এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে জুন যুদ্ধের পর প্রথম দফা আলোচনায় বসে দুই দেশ।
তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হুমকি ও পাল্টা হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে বহুপাক্ষিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। ওই চুক্তির আওতায় ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করেছিল এবং এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে