ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখলে নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৯ মার্চ) ফিনান্সিয়াল টাইমস–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই তার ‘সবচেয়ে পছন্দের’ বিকল্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, আবার নাও নিতে পারি—আমাদের হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে।'
এ বক্তব্যকে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে তুলনা করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদে তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের কৌশল বিবেচনা করছে।
খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হবে না। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সেখানে কিছু সময় অবস্থানও করতে হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানের অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানিনির্ভর। খারগ দ্বীপকে দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপ থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ফলে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক—উভয় দিক থেকেই দ্বীপটির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
ট্রাম্পের এ মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপ নিয়ে যেকোনো পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে