ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ‘শেষ প্রান্তে’ যুক্তরাষ্ট্র, আলোচনার আহ্বান ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ‘শেষ প্রান্তে’ পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে ওয়াশিংটনের এমন বক্তব্যের বিপরীতে তেহরান এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি সম্প্রতি সরাসরি কথা বলেছেন। তাঁর ভাষ্য, ইরান একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে এই যোগাযোগের ধরন বা সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বা আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির কোনো ঘোষণা আসেনি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে প্রায় সাত মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক পথ খোঁজার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে বুধবারও ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভবত শেষের দিকে যাচ্ছে এবং তেহরান চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী। একই সময়ে ইরান নিয়ে পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।
তবে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সতর্ক। তেহরান প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি নিশ্চিত করেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরানের অধিকার সুরক্ষিত থাকে—এমন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে চীন সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াং ই দুই দেশকে সংযম দেখানোর পাশাপাশি জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তিতে ফিরে গিয়ে নতুন করে কার্যকর আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা যাতে ইয়েমেন ও লোহিত সাগর পর্যন্ত আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে বেইজিং।
বেইজিংয়ের বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দ্রুত পুনরায় খুলে দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। চীনের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য এই নৌপথ সচল রাখা জরুরি। ওয়াং ই একই সঙ্গে আগের সমঝোতার ভিত্তিতে আলোচনার কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানান।
ফলে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও এখনো যুদ্ধের অবসান বা স্থায়ী শান্তিচুক্তির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। ওয়াশিংটন-তেহরানের সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং চীনের আলোচনায় ফেরার আহ্বান আগামী দিনগুলোতে সংঘাতের গতিপথে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মতামত দিন