ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে চলমান উত্তেজনা কমাতে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে দেশটিতে পরিকল্পিত বড় ধরনের সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তির মূল ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে এটি দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, চুক্তিটি হলে অবিলম্বে কোনো বাধা ছাড়াই জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সংকটের অবসান ঘটবে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিষয়ে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে শনিবার সকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে এক টেলিফোন আলাপে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তেহরান তার আনুপাতিক জবাব দেবে।
অন্যদিকে এক সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান শনিবার ট্রাম্পকে ফোন করে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফিরে আসার পরামর্শ দেন।
এর মাত্র একদিন আগে, গত শুক্রবারও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে প্রয়োজনে তেহরানের বিরুদ্ধে “অত্যন্ত কঠোর” সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁর এই সাম্প্রতিক বক্তব্যে সামরিক অভিযান প্রত্যাহারের একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় শনিবার এই অঞ্চলের ১০টি দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এতে মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে দ্রুত অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মতামত দিন