চীনে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, পেলেন লাল গালিচা সংবর্ধনা
গত প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বেইজিং বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নামার পর চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উষ্ণ অভ্যর্থনায় তাকে স্বাগত জানান। সামরিক গার্ড অব অনারসহ জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনার আয়োজন করে বেইজিং।
বিমানবন্দরে চীনা শিশু-কিশোররা দুই দেশের পতাকা নাড়িয়ে মান্দারিন ভাষায় স্বাগত জানায় ট্রাম্পকে। লাল গালিচায় হেঁটে যাওয়ার সময় হাস্যোজ্জ্বল ট্রাম্প লিমোজিনে ওঠার আগে মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান।
এবারের সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ট্রাম্পের সফরসঙ্গীরা। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক সর্বোচ্চ নির্বাহী তার সঙ্গে বেইজিং এসেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক, মেটার ভাইস চেয়ারম্যান ডিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি ওর্টবার্গ এবং ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী স্টিফেন শোয়ার্জম্যানসহ আরও অনেকে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন টেক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সফরে রয়েছেন, যা দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সফরের আগে নিজের 'ট্রুথ সোশ্যাল' প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছিলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে তিনি চীনের বাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানাবেন। দুই দিনের এই সফরে বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধ এবং তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোও আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষত তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দ ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ এখনো ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে, যা নিয়ে চীন ইতোমধ্যে কড়া আপত্তি জানিয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জনসমর্থনে ভাটা পড়ায় এই সফর থেকে কিছু অর্থনৈতিক সাফল্য ঘরে তুলে নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধারে মরিয়া ট্রাম্প। সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন তিনি। এ ছাড়া গ্রেট হল অব দ্য পিপলে রাজকীয় সংবর্ধনা, ৬০০ বছরের পুরনো 'টেম্পল অব হেভেন' পরিদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজনও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাণিজ্য শুল্ক, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা, তাইওয়ান ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে দুই নেতার এই বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। এক দশক পর ট্রাম্প যখন চীনে পা রাখলেন, তখন দেশটি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা — এই বাস্তবতাই আলোচনার ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে