ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রাণহানি ঠেকাতে চলমান যুদ্ধের অবসানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বর্তমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধে তিনি হামলা স্থগিত রাখতে সম্মতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের প্রতিনিধিরা একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ নিয়ে না আসা পর্যন্ত দেশটিতে হামলা চালানো হবে না।
ইরানের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা কোনো একটি চূড়ান্ত পরিণতিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে বলে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা মূলত ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পুনরায় বোমা হামলার হুমকি থেকে পিছু হটারই একটি দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বনেতারা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দোহাই দিয়ে এ ধরনের হামলার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরান, ইসরায়েল বা পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। নতুন ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরকার বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলেই তিনি মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিহতের বিষয়টিই ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেও ইরানের বন্দর ও উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তেহরান অবশ্য শুরু থেকেই এই অবরোধকে ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে অভিহিত করে আসছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এই বিরোধের কারণে চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
মজার বিষয় হলো, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ট্রাম্প এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছিলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলার জন্য ‘উন্মুখ’ হয়ে আছে। তবে শেষ মুহূর্তে সুর পরিবর্তন করে তিনি বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি ‘দারুণ চুক্তি’ হতে যাচ্ছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে