ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের বৈঠক, কিয়েভে ৩ দিনের যুদ্ধবিরতি
ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে জোর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ক্রেমলিনে তিন ঘণ্টাব্যাপী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। এর ঠিক ১১ দিন আগে আগে মস্কো সফর করেন সিআইএ প্রধান জন র্যাটক্লিফ।
বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার লক্ষ্যে ইউক্রেনের রাজধানীতে ট্রাম্পের দূতদের এটিই প্রথম সফর।
শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট পুতিনকে। সে সময় বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পুতিন বলেন, এটি ‘খুব একটা সহজ নয়’।
তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান উইটকফ।
বৈঠক প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে পুতিন বলেন, ‘যাই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী’।
মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি আরও যোগ করেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধে ওয়াশিংটন প্রচেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’
বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বা উভয় পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছেছে কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে অভিহিত করেছেন।
উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সংকট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরও আলোচনা প্রয়োজন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সত্ত্বেও বেশিরভাগ সময় ধরে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি ছিল ধীরগতির, যাতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে ইউক্রেন। ট্রাম্পের দূতদের সঙ্গে আলোচনার বিষয় উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’
আলোচনাকে গতিশীল করতে এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজধানী কিয়েভে হামলা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন পুতিন। তবে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট করেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অন্য অঞ্চলগুলোর জন্য এই নির্দেশ কার্যকর হবে না।
২০২২ সালের পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা ঠিক কীভাবে কিয়েভ সফরে যাবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মতামত দিন