হরমুজকে প্রণালিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশ
হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে দেখানোর অবস্থান আবারও সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (২৩ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ মধ্যপ্রাচ্যের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন তিনি। এতে হরমুজ প্রণালির চারপাশে বৃত্ত এঁকে সেটিকে ‘নিউ ইউএস টেরিটরি’ বা ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এবারের পোস্টে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।
একই ধরনের মানচিত্র এর আগে গত ১৮ আগস্টও প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার হরমুজকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হলো। এর আগে ১৪ আগস্ট নিউইয়র্কে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর তিনি কৌশলগত এই জলপথকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করতে পারেন।
এরপর শুক্রবার দক্ষিণ ক্যারোলিনার মার্টল বিচে এক নির্বাচনী সমাবেশে হরমুজ নিয়ে আরও সরাসরি মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনি হরমুজ প্রণালিকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, জলপথটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এমন বক্তব্যের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের কথা বলে আসছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। সর্বশেষ ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনারও তীব্র সমালোচনা করেছে এবং এগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন বহির্দেশীয় পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করত। বর্তমানে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ইরান সম্প্রতি কয়েকটি ইরাকি তেলবাহী জাহাজকে পারাপারের বিশেষ অনুমতি দিলেও সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো বড় ধরনের ব্যাঘাতের মুখে রয়েছে।
হরমুজকে ঘিরে ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপের পথে এগোচ্ছে। ফলে ট্রাম্পের ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ মন্তব্য এবং হরমুজকে ঘিরে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
মতামত দিন