আদালতের রায়ের পর প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক ফেরত দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা শুল্কের বড় অংশ বাতিল হওয়ায় আমদানিকারকদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়েছে। মার্কিন শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রায় ১২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এর তিন-চতুর্থাংশের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দিয়ে জানায়, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। এই আইনের আওতায় কানাডা, মেক্সিকো, চীনসহ ৯০টির বেশি দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) আদালতে জমা দেওয়া নথিতে জানিয়েছে, শুল্ক ফেরতের প্রক্রিয়া নিয়মিত চলছে এবং ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। আদালতের রায়ের আগে ট্রাম্প প্রশাসন এসব শুল্ক বাবদ প্রায় ১৬৬ বিলিয়ন ডলার আদায় করেছিল।
তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট-এর আওতায় ইস্পাত, গাড়ি, তামাসহ নির্দিষ্ট শিল্পখাতে আরোপিত শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত বাতিল হওয়া শুল্কের অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে আদালতের সিদ্ধান্তের পরও ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য আইনি বিধান ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে। গত মাসে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ৬০ দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়। এ তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে, যার পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।
সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য নতুন এই শুল্কের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট যে শুল্ক বাতিল করেছিল, ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন আইনি ভিত্তি দেখিয়ে কার্যত একই ধরনের শুল্ক আবারও কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
মতামত দিন