৯ মার্চ পর্যন্ত কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন ট্রুডো
কানাডার ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে আগামী ৯ মার্চ। দল নতুন নির্বাচন করা পর্যন্ত ট্রুডোই কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। খবর এপির।
দলের নেতৃত্বের শীর্ষ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় ব্যাংকার মার্ক কার্নি এবং প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, যার আকস্মিক পদত্যাগের ফলে গত মাসে ট্রুডো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
“একটি নিরাপদ জাতীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কানাডার লিবারেল পার্টি ৯ মার্চ একজন নতুন নেতা নির্বাচন করবে, যিনি ২০২৫ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জয়লাভ করতে প্রস্তুত,” বলেছেন লিবারেল পার্টি অব কানাডার সভাপতি সচিত মেহরা।
এই রাজনৈতিক পরিবর্তন কানাডার জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসেছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কানাডাকে ৫১তম রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
মূলত এ ঘোষণার পর থেকেই মি. ট্রুডোর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে কারণ এই পরিমাণ কর কানাডার অর্থনীতিকে শেষ করে দিতে পারে।
বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মি. ট্রুডো বলেছেন যে, বিশ্ব বর্তমানে একটি ‘জটিল’ সময় পার করছে।
এমন একটি সময়ে কানাডাকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য দেশটির পার্লামেন্টে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। এ অবস্থায় আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লিবারেল পার্টি নতুন নেতা নির্বাচন করার কথা রয়েছে।
সাধারণত রাজনৈতিক সংকটের সময় পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয়। এর ফলে পার্লামেন্ট না ভেঙেই দেশে বিতর্ক বা ভোটাভুটি বন্ধ রাখা যায়।
২০২০ সালেও বিশেষ এক রাজনৈতিক পরিস্থিতে পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করেছিলেন মি. ট্রুডো। কানাডার লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা জানিয়েছেন যে, তাদের নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য খুব শিগগিরই একটি দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন।
মি. ট্রুডোর উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে।
তাদের মধ্যে ট্রুডোর সরকারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, পরিবহনমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক কারনির নাম বেশ আলোচনায় রয়েছেন।
মতামত দিন