দ্য ডিপ্লোম্যাটকে সাক্ষাৎকার
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অসম্ভব নয়: তারেক রহমান
বাংলাদেশের জন্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য ডিপ্লোম্যাটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নয়াদিল্লিভিত্তিক সাংবাদিক শাহাদাৎ স্বাধীনের নেওয়া এ সাক্ষাৎকারটি বুধবার প্রকাশিত হয়। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো এবং অর্থনৈতিক রূপান্তর নিয়ে নিজের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তারেক বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি মূলত দুটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে—পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়। তবে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আইটি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালকা প্রকৌশল, জুতা শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং খাদ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তার মতে, পর্যাপ্ত মাছ ও সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচার হয়েছে বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে, যেখানে সরকারই দুর্নীতিকে উৎসাহ দিয়েছে। জনগণের অর্থ লুট করা হয়েছে, কোনো স্বচ্ছতা বা জবাবদিহি ছিল না।
নিজের নেতৃত্বাধীন সরকার একই পথে হাঁটবে না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিএনপির প্রধান অঙ্গীকার হলো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, বিএনপির রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে রাজনৈতিক কর্মসূচি মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সব বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বেড়েছে। ‘দ্য প্ল্যান’ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরাসরি শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও মতামত শুনছেন বলেও জানান।
সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির পাঁচটি বিশেষ সেবার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—দরিদ্র নারীদের জন্য মাসিক ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হেলথ কার্ড, যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবাসীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি।
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পরিবেশ সুরক্ষায় বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলবায়ু তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে