ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই রায় ঘোষণা করা হবে। এর আগে গত ১৪ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরবর্তীতে রায় ঘোষণার জন্য আজকের (৩০ জুন) দিনটি ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, নির্বিচারে হত্যার নির্দেশ এবং ‘দেখামাত্র গুলি’ (শুট-অ্যাট-সাইট) করার নীতিগত সিদ্ধান্তে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে ইনু তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিয়েছিলেন। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ১৮ জুলাই মুম্বাই-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর পরদিনই (১৯ জুলাই) গণভবনে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলের বৈঠকে তিনি অংশ নেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
মামলার বিবরণীতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপারকে (এসপি) সরাসরি ফোন করে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন হাসানুল হক ইনু। এই নির্দেশনার পরপরই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডাররা। ৫ আগস্ট সরকার পতন পর্যন্ত এই সহিংসতায় কুষ্টিয়ায় সাতজন আন্দোলনকারী নিহত হন।
এই মামলায় অপরাধ প্রমাণে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন পক্ষ। অন্যদিকে নিজেদের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে ২ জন সাক্ষী হাজির করে আসামিপক্ষ।
এর আগে গত বছরের ২৫ মে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা, যা দ্রততম সময়ের মধ্যে শেষ করে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২ নভেম্বর জাসদ সভাপতির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মতামত দিন