অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা যাবে না: হাইকোর্ট
গাছ কাটার আগে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) এ রায় দেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সারা দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ এবং মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় জনস্বার্থে রিট করেছিলেন মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন এইচআরপিবি’র পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এখলাস উদ্দিন ভুঁইয়া ও অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ই।
রিটের শুনানি শেষে গত বছর ৭ মে বিবাদীদের প্রতি, ‘ঢাকার দুই সিটি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা কেন মানবাধিকারের পরিপন্থি হবে না এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ অনুসারে বপণকৃত গাছ না কেটে বরং গাছের মূল্যের সমপরিমাণ টাকা কেন বপণকারীদের দেয়া হবে না এবং গাছ কাটতে হলে সব পর্যায়ে কেন সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদন নিতে হবে না’- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
রুলের শুনানি শেষে দেয়া রায়ে গাছ কাটার অনুমতি নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে সাতদিনের মধ্যে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, পরিবেশবিদ, পরিবেশবিদ ও অধ্যাপকদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে সাত দিনের মধ্যে সার্কুলার ইস্যু করে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যাপক, সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে, যারা জেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতি দেবেন।
রায়ে জনপ্রশাসন সচিবকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সব জেলা প্রশাসকদের প্রতি সার্কুলার ইস্যু করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা, এসি ল্যান্ড এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট, যারা উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতি দেবেন।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ এর অধীনের রোপণকৃত গাছগুলো কাটা যাবে না। বরং গাছের সমমূল্যের টাকা রোপণকারীকে দিতে হবে। এই মর্মে সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় পরিবর্তন আনারও নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।
রিট ও রুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল ও অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. শফিকুর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবীর রোমেল।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে